শীতকালীন স্বাস্থ্যবার্তা

Jan. 11, 2018

সৌজন্যেঃ ই-যুগান্তর

Jul. 20, 2017

রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় বলতে শুনলাম, “ভাইরে আমার তো চিকুনগুনিয়াতে ধরছে। মাত্র টেস্টা করায় আনলাম।” তাকিয়ে দেখি এক ব্যক্তি গাড়ি থেকে মুখ বের করে রাস্তায় দেখা হওয়া পরিচিতকে এই কথা বলছেন।


মস্তিষ্কের ক্ষতিকর অভ্যাস
ভ্রমণে অসুস্থতা এড়াতে
জ্বর যখন টাইফয়েড
কয়েকদিন আগেও এই রোগের নাম তেমন প্রচলিত ছিল না।

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ পঞ্চাশ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরামর্শদাতা ডা. কামরুল হাসান (বিসিএস স্বাস্থ্য) বলেন, “বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস নিশ্চিতভাবে সনাক্ত করার স্থান হল রাজধানীর মহাখালিতে অবস্থিত রোগ তত্ত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর। এই গবেষণা কেন্দ্রে ‘সেলোরজি’ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস সনাক্ত করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “ভাইরাসটি এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশাটি সুস্থ কাউকে কামড়ালে তার শরীরেও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ ঘটে।”

রোগের লক্ষণ সম্পর্কে এই চিকিৎসক বলেন, “চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণগুলো অন্যান্য সকল ভাইরাল জ্বরের মতোই। হাড়ের জোড়ায় তীব্র ব্যথাই এই রোগের একমাত্র স্বতন্ত্র উপসর্গ। সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া, বমিভাব, শারীরিক দুর্বলতা, সর্দি-কাশি, র‌্যাশ ইত্যাদি তো আছেই।”

“বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে জ্বর সেরে যায়। তবে হাড়ের জোড়ের ব্যথা নাছোড়বান্দায় রূপ নেয়। ব্যথার তীব্রতাও প্রচণ্ড। ফলে রোগীর স্বাভাবিক হাঁটাচলা, হাত দিয়ে কিছু ধরা এমনকি হাত মুঠ করতেও বেশ কষ্ট হয়। আর শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে।” বললেন ডা. কামরুল।

পরামর্শ

একটানা তিন দিন জ্বর ও হাড়ের জোড়ে প্রচণ্ড ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এই রোগের বিশেষ কোনো ওষুধ বা টিকা নেই। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা পর কিংবা তিনবেলা প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে কোনো ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কোনো উপকার নেই। বরং অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

এছাড়া প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পাশাপাশি ডাবের পানি, স্যালাইন, লেবুর সরবত ইত্যাদি গ্রহণ করতে হবে।



এছাড়া রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআডিসিআর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, তাদের ওয়েবসাইটে চিকুগুনিয়া নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

যা নিচে দেওয়া হল।

চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাস জনিত জ্বর যা আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। এ রোগ ডেঙ্গু, জিকা’র মতোই এডিস প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। রোগটি প্রথম ১৯৫২ সালে আফ্রিকাতে দেখা যায়। পরবর্তীতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন- ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার এবং ইন্দোনেশিয়াতে এর বিস্তার দেখা যায়।

বাংলাদেশে প্রথম ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জে প্রথম এ ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা যায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ঢাকার দোহার উপজেলায় এই রোগ দেখা যায়। তবে এর পরে বিচ্ছিন্ন দুএকটি রোগী ছাড়া এ রোগের বড় ধরনের কোনো বিস্তার আর বাংলাদেশে লক্ষ করা যায়নি।

বর্ষার পর পর যখন মশার উপদ্রব বেশি হয় তখন এ রোগের বিস্তার বেশি দেখা যায়।

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস কী? চিকুনগুনিয়া ভাইরাস টোগা ভাইরাস গোত্রের ভাইরাস। মশাবাহিত হওয়ার কারণে একে আরবো ভাইরাসও বলে। ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাস ও একই মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রায় একই রকম রোগের লক্ষণ দেখা যায়।

রোগের লক্ষণ সমূহ (১) হঠাৎ জ্বর আসা সঙ্গে প্রচণ্ড গিঁটে গিঁটে ব্যথা। অন্যান্য লক্ষণ সমুহের মধ্যে- (২) প্রচণ্ড মাথাব্যথা (৩) শরীরে ঠাণ্ডা অনুভূতি (Chill) (৪) বমি বমি ভাব অথবা বমি (৫) চামড়ায় লালচে দানা (Skin Rash) (৬) মাংসপেশিতে ব্যথা (Muscle Pain)

সাধারণত রোগটি এমনি এমনিই সেরে যায়, তবে কখনও কখনও গিঁটের ব্যথা কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছরের বেশি সময় থাকতে পারে।

বাহক: এডিস ইজিপ্টি ((Ades aegypti) এবং এডিস এলবোপিকটাস (Ades albopictus) মশার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। মশাগুলোর শরীরের ও পায়ের সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ দেখে সহজেই চেনা যায়।

কারা ঝুঁকির মুখে: এ মশাগুলো সাধারণত পরিষ্কার বদ্ধ পানিতে জন্মায় এবং যাদের আশপাশে এ রকম মশা বৃদ্ধির জায়গা আছে, সে সব মানুষেরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

কীভাবে ছড়ায়: প্রাথমিকভাবে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত এডিস ইজিপ্টাই অথবা এডিস অ্যালবুপিক্টাস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এ ধরনের মশা সাধারণত দিনের বেলা (ভোর বেলা অথবা সন্ধ্যার সময়) কামড়ায়। এছাড়াও চিকুনগুনিয়া ভাইরাস আক্রান্ত রক্তদাতার রক্ত গ্রহণ করলে এবং ল্যাবরেটরীতে নমুনা পরীক্ষার সময়ে অসাবধানতায় এ রোগ ছড়াতে পারে।

সুপ্তিকাল: ৩-৭ দিন (তবে ২-২১ পর্যন্ত হতে পারে)।

প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ: এ রোগ প্রতিরোধের কোনো টিকা নাই। ব্যক্তিগত সচেতনতাই চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

মশার কামড় থেকে সুরক্ষা: মশার কামড় থেকে সুরক্ষাই চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়। শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢাকা রাখা (ফুল হাতা শার্ট এবং ফুল প্যান্ট পরা), জানালায় নেট লাগানো, প্রয়োজন ছাড়া দরজা জানালা খোলা না রাখা, ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা, শরীরে মশা প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করার মাধ্যমে মশার কামড় থেকে বাঁচা যায়।

শিশু, অসুস্থ রোগী এবং বয়স্কদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

মশার জন্মস্থান ধ্বংস করা: আবাসস্থল ও এর আশপাশে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে। বাসার আশপাশে ফেলে রাখা মাটির পাত্র, কলসী, বালতি, ড্রাম, ডাবের খোলা ইত্যাদি যেসব জায়গায় পানি জমতে পারে, সেখানে এডিস মশা প্রজনন করতে পারে। এসব স্থানে যেন পানি জমতে না পারে সে ব্যাপারে লক্ষ রাখা এবং নিয়মিত বাড়ির আশপাশে পরিষ্কার করা। সরকারের মশা নিধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা।

যেহেতু এ মশা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত থেকে জীবাণু নিয়ে অন্য মানুষকে আক্রান্ত করে, কাজেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে যাতে মশা কামড়াতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া।

রোগ নির্ণয়: উপরোল্লিখিত উপসর্গগুলো দেখা দিলে, ওই ব্যক্তির চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণের আশংকা থাকে। উপসর্গগুলো শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে ভাইরাসটি (Serology Ges এবং RT-PCR) পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করা যায়।

বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিটিউট (আইইডিসিআর)-এ চিকুনগুনিয়া রোগ নির্ণয়ের সকল পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসা: চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা মূলত উপসর্গ ভিত্তিক। এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে এবং প্রয়োজনে জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ওষুধ খেতে হবে।

গিটের ব্যথার জন্য গিঁটের উপরে ঠাণ্ডা পানির স্যাঁক এবং হালকা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। তবে প্রাথমিক উপসর্গ ভালো হওয়ার পর যদি গিঁটের ব্যথা ভালো না হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। কোনো কারণে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।

Feb. 17, 2016

ঠোঁটকাটা-তালুকাটা কনটেন্টটিতে ঠোঁটকাটা-তালুকাটা কী, লক্ষণ ও উপসর্গ, কোথায় চিকিৎসা করা হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রতিরোধ সর্ম্পকে বর্ণনা করা হয়েছে।

ঠোঁট কাটা-তালু কাটা জন্মগত ত্রুটি গুলোর মধ্যে অন্যতম। আমাদের দেশে অনেক শিশু্‌ই ঠোঁট কাটা-তালু কাটা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিছু নির্দেশনা মেনে চললে এবং সু্স্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন পদ্ধতি বজায় রাখলে এ ধরণের শিশু জন্ম দেয়ার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কম থাকে।

ঠোঁট কাটা-তালু কাঁটা কি 

ঠোঁটের উপরের অংশ এবং মুখের ভিতরের তালু কাটাকেই ঠোঁট কাটা-তালু কাটা বলে। গর্ভস্থ শিশুর মুখের গড়ন (Facial Structure) অসম্পূর্ণভাবে গঠিত হলে এই  ধরণের সমস্যা হয়।

লক্ষণ ও উপসর্গ 

জন্মের সময়ই শিশুর ঠোঁট কাটা-তালু কাটা ধরা পড়ে। এক্ষেত্রে সাধারণত: যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয় সেগুলো হলো:

  • মুখের একপাশে বা উভয় পাশেই এই সমস্যা দেখা দেয়
  • ঠোঁট কাটার ক্ষেত্রে ঠোঁটে ছোট খাঁজ কাটার মত হয় অথবা ঠোঁট থেকে মাঢ়ীর উপরের অংশ পর্যন্ত কাটা বিস্তৃত হয়
  • তালু কাটা নাকের নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়
  • তালুকাটার ক্ষেত্রে  তালুর মাংস পেশী খুব কম কাটা থাকে 

কোথায় চিকিৎসা করাবেন 

  • ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ওরাল ম্যাক্সিলো-ফেশিয়াল সার্জারি বিভাগ
  • মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি এবং প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগ
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
  • বেসরকারী হাসপাতাল- যেমন, আল-রাজী ইসলামিয়া হাসপাতাল (প্রাঃ) লিঃ

কি ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন  হতে পারে 

  • গর্ভস্থ শিশুর আল্ট্রাসনোগ্রাম
  • জীনগত পরীক্ষা (Genetic Testing)
  • এমনিওসেনটেসিস পরীক্ষা (Amniocentesis)

কি ধরনের চিকিৎসা আছে 

ঠোঁট কাটা-তালু কাটার চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে সার্জারী এবং থেরাপী। সার্জারীর মাধ্যমে জন্মগত ত্রুটি গুলো ঠিক করা হয় এবং থেরাপীর মাধ্যমে অন্যান্য সমস্যা থাকলে তা দূর করা হয়। ঠোঁট কাটা-তালু কাটা চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো শিশুর মুখের স্বাভাবিক গড়ন লাভ করা, শিশুর নি:শ্বাস নেয়া, খাওয়া, কথা বলা এবং শোনার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা থাকলে তা দূর করা ।  

কিভাবে ঠোঁট কাটা-তালু কাঁটা প্রতিরোধ করা যায় 

একটি শিশুর ঠোঁট কাটা-তালু কাটা সমস্যা হলে পরবর্তী শিশুটিরও এরকম সমস্যা হতে পারে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা প্রতিরোধ করা যায় না তবে এক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা মেনে চলা যায়। যেমন:

  • অল্প ও বেশী বয়সে গর্ভধারণ না করা
  • গর্ভধারনের আগে এবং ১ম ৩ মাস ফলিক এসিড সেবন করা
  • ধূমপান এবং অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকা
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ না খাওয়া

সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন.১.ঠোঁট কাটা-তালু কাটা কেন হয়? 

উত্তর. সাধারণত ঠোঁট এবং তালুর কলা (Tissue) একসাথে মিশে এবং  ঠোঁট এবং তালু গড়ে উঠে। তবে এ দুটির গঠন একসাথে না হলে বা আংশিক হলে ঠোঁট কাটা-তালু কাটার সমস্যা হয়ে থাকে। এছাড়া আরো কিছু কারণে ঠোঁট কাটা-তালু কাটার সমস্য হয়। যেমন:

  • জীনগত কারণে
  • পারিপাশ্বিক কারণে যেমন: কিছু ঔষধের কারণে, শিরাপথে মাদক সেবন করলে, ধূমপান, মদপান করলে

প্রশ্ন.২.কাদের ঠোঁট কাটা-তালু কাটা সহ শিশুর জন্ম দেয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে? 

উত্তর. যাদের ঠোঁট কাটা-তালু কাটা সহ শিশুর জন্ম দেয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে তারা হলেন:

  • যাদের বংশে কারো ঠোঁট কাটা-তালু কাটার সমস্যা আছে
  • পুরুষদের ঠোঁট কাটার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এর সাথে তালু কাটা থাকতে পারে নাও পারে
  • মহিলাদের মধ্যে তালু কাঁটার সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়
  • গর্ভধারণের প্রাথমিক দিকে সিগারেট,মদ এবং অন্যান্য মাদক দ্রব্য সেবনে গর্ভে শিশুর ঠোঁট কাটা-তালু কাটা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে
  • মা যদি অস্বাভাবিক মোটা হন, মায়ের যদি ডায়াবেটিস থাকে তাহলে গর্ভের শিশুর ঠোঁট কাটা-তালু কাটা হওয়ার সম্ভাবনা  থাকে

প্রশ্ন.৩.ঠোঁট কাটা-তালু কাটা হলে কি ধরণের জটিলতা দেখা দিতে পারে? 

উত্তর. ঠোঁট কাটা-তালু কাটার কারণে নিচের জটিলতা গুলো দেখা দিতে পারে: 

  • তালু কাটার ফলে বাচ্চারা মায়ের দুধ খেতে পারে না এবং নাক দিয়ে খাবার বেরিয়ে আসে
  • তালু কাটার ফলে বাচ্চাদের কানে সংক্রমণ হয় এবং পরবর্তীতে কানে শুনতেও সমস্যা হয়
  • ঠোঁট কাটা যদি উপরের মাঢ়ী পর্যন্ত বিস্তৃত হয় তাহলে দাঁতের অনেক সমস্যা দেখা দেয়
  • ঠোঁট কাটা-তালু কাটার ফলে কথা বলতে/ শব্দ উচ্চারণে সমস্যা হয়
  • ঠোঁট কাটা-তালু কাটা সমস্যার ফলে বাচ্চারা সামাজিক, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে

প্রশ্ন.৪.ঠোঁট কাটা-তালু কাটা ঠিক করার জন্য কি ধরণের সার্জারী আছে? 

উত্তর.সাধারণত সার্জারী নিচের বিন্যাস অনুযায়ী করা হয়ে থাকে:

  • ঠোঁট কাটা-তালু কাটা সারানো (Cleft lip repair) । এটি ১০ মাস বয়স থেকে ৩ মাস বয়সের মধ্যে করা হয়।
  • তালু কাটা সারানো (Cleft palate repair) । এটি ৬ মাস বয়স থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে করা হয়।
  • ফলোআপ সার্জারী (Follow-up Surgeries) । এটি ২ বছর বয়স থেকে ১৯ বছরের মধ্যে করা হয়।

এছাড়াও নিচের সার্জারী গুলো করা হয়:

  • দাঁতের হাড় জোড়া দেয়া বা সংযোজন (Teethridge Bone Grafting)
  • চোয়ালের সার্জারী (Jaw Surgery)

প্রশ্ন.৫.ঠোঁট কাটা-তালু কাটা ঠিক করার জন্য কি ধরণের থেরাপী আছে? 

উত্তর.ঠোঁট কাটা-তালু কাটা ঠিক করার জন্য থেরাপীর মধ্যে রয়েছে:

  • ত্রুটিপূর্ণ বাচনভঙ্গির চিকিৎসা (Speech Therapy
  • শ্রবণ শক্তির চিকিৎসা (Hearing Therapy)
  • মানসিক চিকিৎসা (Psychological Therapy)

- See more at: http://www.infokosh.gov.bd

Feb. 17, 2016

শিশুদের জন্য শীতের আগমন মানেই মায়েদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যাওয়া। তাই তাদের প্রতি একটু বাড়তি যত্নই নিতে হয়। শীতে জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি সাধারণ ঘটনা। জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশির জন্য বয়স অনুযায়ী সাধারণ ওষুধেই ভালো হয়ে যায়। 

অনেকের আবার তাও লাগে না। লবণ পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার এবং বুকের দুধ ও পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়ালেই ভালো হয়ে যায়। বাসক পাতার রস এবং মধুও ভালো কাজ দেয়।

শীতে শিশুর সর্দি-কাশির বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত। এগুলোয় সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো দরকার পড়ে না। তাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার করলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। ঘরোয়া চিকিত্সাতেই অধিকাংশ সর্দি-জ্বর ভালো হয়। এ সময় মায়েদের উষ্ণ পানি দিয়ে শিশুদের গোসল করাতে হবে। হালকা ফ্যান ছেড়ে ঘুমালেও কোনো ক্ষতি নেই। নাক যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে লবণ পানির ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া বাজারে নরসল ড্রপ কিনতে পাওয়া যায়।

পাতলা কাপড় বা কটন বাডে দুই ফোঁটা নরসল ড্রপ লাগিয়ে নাক পরিষ্কার করা যেতে পারে। যদি কাশি হয় তবে ওষুধ ব্যবহার না করে ঘরেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে। যেমন—আধা কাপ লাল চায়ের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়ানো যায়। অথবা আধা কাপ গরম পানির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধু বা তুলসী পাতার রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়ানো যায়।

আদা কুচি করে বা আদা-চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়েও শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। জ্বর ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়ানো উচিত। এছাড়া তোয়ালে ভিজিয়ে বারবার শিশুর গা মুছিয়ে দিতে হবে। তবে বাচ্চার নিউমোনিয়ার ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর শ্বাসনালি অতি সংবেদনশীল। তাই শীতে হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে।

এই রোগ প্রতিরোধে বাসায়, শোবার ঘরে কার্পেট রাখবেন না। লোমযুক্ত চাদর, কম্বল ব্যবহার করবেন না। হাঁপানি নিরাময়ে সালবিউটামল সিরাপ এক বছরের নিচের জন্য আধা চামচ আর এক বছর থেকে পাঁচ বছরের জন্য এক চামচ করে দিনে তিনবার খাওয়াতে পারেন।

শিশুর ত্বক ও শ্বাসতন্ত্র নাজুক ও অপরিণত। তাই শিশু তাপ ধরে রাখতে পারে না, সহজে ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এ সময় তাই তাকে পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরাতে হবে। তবে এর মানে এই নয় যে, শিশুকে নাক-মুখ বন্ধ করে, শক্ত করে মুড়িয়ে দিতে হবে। শীতের কাপড় যেন আরামদায়ক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শীতে ঘাম কম হওয়ার কারণে শিশুর প্রস্রাব বেশি হয়। এ জন্য নবজাতকের কাঁথা ভিজে যাচ্ছে কি না বা একটু বড় শিশুর প্যান্ট ভিজছে কি না তা সব সময় খেয়াল রাখতে হবে।

অনেকে বেশি প্রস্রাব করছে দেখে শিশুকে বুকের দুধ ও তরল খাবার কমিয়ে দেন। এটি খুবই মারাত্মক একটি পদক্ষেপ, যা কখনোই করা উচিত নয়। এতে কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। শীতে সোনামণিদের কোমল ত্বকের যত্নে অবশ্যই ভালো মানের লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। শুধু মুখে নয়, সারা শরীরে। শিশুকে পর্যাপ্ত সময় রোদে রাখতেও ভুলবেন না। শীতে গোসল করতে কিন্তু বাধা নেই।

কুসুম গরম পানি দিয়ে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে পারেন। অনেকে গোসলের আগে সরষের তেল মাখিয়ে দেন। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, অবশ্য ক্ষতিও নেই। তবে গোসল করানোর সময় কানে যাতে পানি না ঢোকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর শরীর ভালোভাবে মুছতে ভুলবেন না। শিশুকে নিয়ে বেশি ভয় থেকে কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠদের পরামর্শে শীতে অনেক মা খাওয়া-দাওয়া ও জীবনাচরণে খুবই কঠোরতা অবলম্বন করেন। বিশেষ করে নবজাতকের মায়েরা এসব বেশি করেন। অনেকে নিজের সর্দি-কাশি হলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দেন।

গ্রামাঞ্চলের মতো শহরেও এসব ঘটনা বিরল নয়। এসবে শিশুর তো লাভ হয়ই না বরং ক্ষতি হতে পারে। আসলে বিভিন্ন ঋতুর মতো শীতেও শিশুর নানা রোগ হতে পারে, এটা আলাদা বিশেষ কোনো ব্যাপার নয়। এ জন্য দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। রাতে ঘুমানোর আগে গ্লিসারিনের সঙ্গে পানি মিশিয়ে শিশুর হাত-পায়ে লাগানো যেতে পারে। শীতে বাচ্চাদের মোটা সুতি কাপড় পরানো যেতে পারে। আঁটসাঁট বা উলের কাপড় পরালে তাদের শরীর ঘেমে ঘামাচি উঠতে পারে।

এক্ষেত্রে ফ্লানেলের জামা পরানো যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় শিশুর গলায় ও মাথায় পাতলা কাপড় পেঁচিয়ে রাখলে ভালো হয়। রাতে টুপি বা মোজা পরে শিশুকে কখনোই ঘুমাতে দেয়া উচিত নয়। কারণ, শিশু রাতে ঘুমানোর সময় বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। ভেজা বিছানায় শুয়ে থাকলে তার ঠাণ্ডা লাগার ভয় থাকে বেশি। তাই এ বিষয়ে বাবা-মাকে অবশ্যই বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

শীতের কিছু সাধারণ সমস্যা যেমন জ্বর, সর্দি, কাশি, হাঁপানি বেড়ে যায়। এজন্য ঘাবড়ে না গিয়ে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। এসময়ে শিশু যেন মেঝেতে খালি পায়ে না হাঁটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুর জন্য বাসায় ব্যবহার উপযোগী জুতা কিনতে পারেন। ঘরের মেঝেতেও কার্পেট অথবা মোটা কাপড় বিছিয়ে দিতে পারেন। তাহলে মেঝেতে বসে খেলা করলেও ঠাণ্ডা লাগবে না। শিশুর কাপড় ঘরে না শুকিয়ে রোদে শুকাবেন।

এছাড়া শিশুর বিছানা-বালিশ প্রতিদিন রোদে গরম করে নিলে শিশু আরাম বোধ করবে। এ সময় শিশুরা বারবার ন্যাপি ভিজিয়ে ফেলে। ন্যাপি বার বার পাল্টে দিতে হবে। তা না হলে নবজাতকের ঠাণ্ডা লেগে নিউমোনিয়া অথবা মামস হয়ে যেতে পারে। শীতে শুষ্ক আবহাওয়ায় ধুলোবালি বেশি থাকে। খেয়াল রাখতে হবে শিশুর গায়ে যেন ধুলোবালি না লাগে এবং কাপড় চোপড়ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

শিশুর যত্নের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। তা হলো শিশুর ত্বক শুষ্ক হতে দেয়া যাবে না। দিনে দুই-তিনবার বেবি অয়েল বা ভ্যাসলিন দিতে হবে।

সকাল-বিকাল কানঢাকা টুপি ও হালকা শীতের কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে। রাতে ডায়াপার পরিয়ে শোয়াতে হবে। শিশুর নাক-মুখ যেন লেপ, কম্বল দিয়ে ঢেকে না যায় তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।